হত্যাকাণ্ড ঘটলে ইরানে ব্যাপক হামলার নির্দেশ রয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যায় সফল হয়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ আগেই দিয়ে রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, ইরানের কথিত ‘হিটলিস্টে’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করেন। তার ভাষায়, যদি তার সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া আছে।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সম্প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এমন গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছেন যে, ইরান ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মার্কিন গণমাধ্যম *ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল* ও *সিএনএন*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে একটি নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন কোনো তথ্য দেয়নি এবং তিনি অনেক আগে থেকেই নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে বলে মনে করছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের তালিকায় এক নম্বরে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, আমি না থাকলে আপনারা আমাকে মনে করবেন।’
এর আগে ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেও ট্রাম্প একাধিকবার নিজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বও তাকে লক্ষ্যবস্তু মনে করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এদিকে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার সময় তার বিমানে পরিবর্তন আনা হয়। হোয়াইট হাউস পরে নিশ্চিত করে, নিরাপত্তাজনিত কৌশলের অংশ হিসেবেই নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো ‘হিটলিস্ট’ থাকার কথা স্বীকার করেনি।