সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি
উত্তর কোরিয়া ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বিশ্বে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের পর পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্র ক্রয় ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে এগোচ্ছে। তাদের মতে, এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যাটো উত্তর কোরিয়ার বৈধ সার্বভৌম অধিকার ও আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে এবং দেশটির নিরাপত্তা নীতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।

উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, ন্যাটো শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে না, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছে। এর ফলে সামরিক জোটভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।

গত মঙ্গলবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ন্যাটো মূলত একটি সামরিক জোট, যা নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। তাদের দাবি, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে হলে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার আওতায় তাদের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, উত্তর কোরিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। এর আগে শুক্রবার কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা সংখ্যাগত ও প্রযুক্তিগত—উভয় দিক থেকেই আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।