মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্ব৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা এ ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।


কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। সোমবার (১০ আগস্ট) আঘাত হানা ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কালী, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস। পার্শ্ববর্তী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।


ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।


দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কংক্রিটের বড় বড় অংশ ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, কালীতে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও প্রায় ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বর্ণনা করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবন ধসের সময় পুরো এলাকায় ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।


দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের এই দুর্যোগের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলার সরকার। স্থানীয় সময় দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।


প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।


প্রাথমিক হিসাবে ১১১ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩০ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।