করুণানিধিকে নাম ধরে ডাকায় বিধানসভায় ক্ষমা চাইলেন বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকের প্রভাবশালী নেতা এম করুণানিধিকে সম্মানসূচক পদবি ছাড়া নাম ধরে সম্বোধন করায় বিধানসভায় ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।
এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় বিরোধী ডিএমকে সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হস্তক্ষেপ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত স্বাস্থ্য ও রাজস্ব বিভাগের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা চলাকালে। বক্তব্য দিতে গিয়ে তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী আর ভি রঞ্জিত কুমার অতীতে নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে অর্থ বিতরণের অভিযোগ তুলে ‘তিরুমঙ্গলম ফর্মুলা’র প্রসঙ্গ আনেন।
তিনি দাবি করেন, তার কাঞ্চীপুরম কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে ভোটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল। এ সময় আগের সরকারগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি প্রয়াত এম করুণানিধিকে শুধু নাম ধরে সম্বোধন করেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রবীণ ও সম্মানিত নেতাদের নামের সঙ্গে ‘কলাইঞার’ বা ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’র মতো সম্মানসূচক পদবি ব্যবহারের রীতি রয়েছে। সেই রীতি অনুসরণ না করায় বিরোধী ডিএমকে সদস্যরা প্রতিবাদে সরব হন।
বিরোধী বিধায়করা ঘটনাটিকে সংসদীয় সৌজন্য ও শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বনমন্ত্রীর বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করেন এবং করুণানিধিকে এভাবে সম্বোধন করা অনুচিত হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
এরপর বিজয় বিধানসভায় বলেন, তিনি বনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অধিবেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।