রবিবার , ২৩ আগস্ট ২০২৬
রবিবার , ২৩ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে ৬ বাংলাদেশির লাশ

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে ৬ বাংলাদেশির লাশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে ৬ বাংলাদেশির লাশ

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের লাশ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর নাগাদ বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে এসব লাশ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


এর মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাঁচটি এবং ভোমরা সীমান্ত দিয়ে একটি লাশ আসার কথা রয়েছে। তবে নিহত রেবতী সরকারের লাশ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই তার সৎকার সম্পন্ন হবে।


লাশ দেশে আনার জন্য বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন এবং বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান।


জানা গেছে, কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়িতে করে নিহতদের কফিন বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিহতদের স্বজনেরাও উপস্থিত রয়েছেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেও নিহতদের পাসপোর্ট পুলিশের কাছ থেকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তখনো সম্পন্ন হয়নি।


নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন—কুষ্টিয়া শহরের আরুয়াপাড়া এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।


দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।


নিহত অন্য তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই জেলার রেবতী সরকার। সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। আর রেবতী চিকিৎসার জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।


রেবতী সরকারের লাশ দেশে না এনে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে সৎকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। সেখানে থাকা স্বজনদের ব্যবস্থাপনাতেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।


এদিকে নিহতদের স্বজনেরা কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। শনাক্তকরণের সময় স্বজনদের হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।


বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান জানান, নিহত বাংলাদেশিদের লাশ শনিবার দুপুর নাগাদ বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।


বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, প্রক্রিয়াগত কারণে লাশগুলো সকালে আসার পরিবর্তে দুপুর নাগাদ পৌঁছাতে পারে। লাশ গ্রহণ ও দেশে প্রবেশের জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের লাশ গ্রহণের জন্য স্বজন ও সাংবাদিক নেতারা বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশে পৌঁছানোর পর লাশগুলো কুষ্টিয়ায় নেওয়া হবে।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে সমাহিত করা হবে। অন্যদিকে আফসানা শারমীন ও তার বাবা মো. আকরাম আলীকে দাফন করা হবে।


এর আগে ১৯ আগস্ট বুধবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।


ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত বাংলাদেশিদের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে প্রিয়জনদের লাশ হস্তান্তরের অপেক্ষা এখন শেষ হওয়ার পথে।