আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল, দ্রুত কার্যকরের দাবি মায়ের
মাগুরার আলোচিত ৮ বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আছিয়ার মা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মাগুরায় নিজ বাড়িতে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
আছিয়ার মা বলেন, ‘আমি চাই, এই রায়ের কার্যকারিতা দ্রুত হোক। আমি নিজের কানে শুনতে চাই, নিজের চোখে দেখতে চাই। তাহলেই আমি আরও আশ্বস্ত হব এবং শান্তি পাব। আছিয়াও শান্তি পাবে।’
তিনি বলেন, আছিয়ার মতো আর কোনো শিশু যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। কোনো মায়ের কোল যেন আর খালি না হয়।
সরকারের প্রতি পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে আছিয়ার মা বলেন, সরকারের কাছে তার একটাই প্রত্যাশা—তার পরিবার ও সন্তানদের যেন খেয়াল রাখা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি।
ঘটনার পর আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে। একই বছরের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। সোমবার সেই মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় দেওয়া হলো।