বিপিএল বাতিল নয়, পিছিয়ে ‘নিট অ্যান্ড ক্লিন’ টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা
বিপিএল বাতিল করা হবে না; বরং প্রয়োজনে টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দিয়ে একটি ‘নিট অ্যান্ড ক্লিন’ আসর আয়োজনের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিসিবি আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
তামিম বলেন, বিপিএলকে আরও গোছানো ও কার্যকর করতে একটি স্থায়ী ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের জন্য কার্যকর রেভিনিউ মডেলও নির্ধারণ করতে হবে। গত দুই-তিন বছরে বিপিএলে কী হয়েছে, সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কে কী ভাবছে, সেটির চেয়ে প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তামিম। ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট একজনকে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাজশাহীর নামও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক হয়েছে বলে জানান তামিম। বিসিবি ক্রিকেটারদের জন্য যেসব উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, তাতে কোয়াবও সন্তুষ্ট বলে দাবি করেন তিনি।
তামিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে—কোয়াব কেন বিসিবির বিরুদ্ধে কথা বলছে না। কিন্তু বর্তমান বোর্ড ক্রিকেটারদের সে ধরনের অভিযোগ করার সুযোগই দিতে চায় না। ক্রিকেটারদের সেবা করাই বোর্ডের দায়িত্ব এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর তথ্যও জানান বিসিবি সভাপতি। পুরুষ ক্রিকেটারদের চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার, ওয়ানডেতে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের জন্য চার দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তামিমের দাবি, একজন দেশীয় ক্রিকেটার পুরো মৌসুমে এখন ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এতে ক্রিকেটারদের পরিবার চালানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় চাপ কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে পারস্পরিক দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তামিম বলেন, খেলোয়াড়দের দাবিগুলো পূরণ করা হবে এবং একইভাবে তাদেরও বোর্ডের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া আম্পায়ার, কোচ ও ফিজিওদের কাজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে তামিম বলেন, তাদের বেতনও বাড়ানো হবে।
বিপিএলের পাশাপাশি একাডেমি মাঠে ১১০ মিটারের একটি অ্যাথলেটিক ট্র্যাক তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান বিসিবি সভাপতি।