জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পথে কট্টর ডানপন্থী এএফডি
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে মূলধারার দলগুলোকে পেছনে ফেলে বড় জয়ের পথে রয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। অন্তর্বর্তীকালীন ফলাফলে দলটি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল দল সিডিইউ পেয়েছে ১৭ শতাংশ ভোট।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা না থাকলেও এএফডি দাবি করেছে, রাজ্য সরকার গঠনের জন্য তারা স্পষ্ট জনম্যান্ডেট পেয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে এই প্রথম কট্টর ডানপন্থী কোনো দল সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচনে শীর্ষে উঠে এসেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এএফডির ৩৫ বছর বয়সী নেতা উলরিখ সিগমুন্ড। তিনি এ ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্ট নয়, পুরো জার্মানির জন্য পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বার্তা।
তবে নির্বাচনী ফলাফলে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠন নিয়ে জটিলতার মুখে পড়তে পারে এএফডি। ৮৩ আসনের রাজ্য সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন। কিন্তু এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই দলটির। অন্যদিকে জার্মানির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এএফডির সঙ্গে জোট গঠনে অনিচ্ছুক।
এদিকে এএফডির এই সাফল্য নিয়ে জার্মানির বাইরেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার কয়েকজন প্রতিনিধি দলটির জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এ ফলাফলের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ৯৩ বছর বয়সী শার্লট নবলখও নির্বাচনের ফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নীরব না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও রাজ্য পর্যায়ে এএফডির এই শক্তিশালী অবস্থান তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। স্থানীয় শিক্ষা, পুলিশ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রেও দলটির প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এএফডির উত্থান জার্মানির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।