বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআইন ও আদালতফরিদপুরে স্বামী হত্যা: স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্বামী হত্যা: স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ফরিদপুরে স্বামী হত্যা: স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্বামী হাসান শেখ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।


দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন—শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। তারা সবাই ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।


রায় ঘোষণার সময় শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮) পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের হাসান শেখের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ফরিদা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ফরিদা স্থানীয় একটি মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজ করার সময় শাহজাহান মাতুব্বরসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে বাধা দেন হাসান শেখ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার পারিবারিক বিরোধ হয়। একপর্যায়ে হাসানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।


২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বর ফোন করে হাসানকে ডেকে নেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক মিরাজুর রহমান চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


দীর্ঘদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বুধবার আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।


ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, অনৈতিক সম্পর্কের পথ পরিষ্কার করতে পরকীয়া সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের নিয়ে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ভিত্তিতেই আদালত এ রায় দিয়েছেন।