বাংলাদেশে প্রথমবার এসে ব্যাগ হারিয়ে ‘পরিস্থিতি ভালো নয়’ বললেন জার্মান পর্যটক
বাংলাদেশে প্রথমবার সফরে এসে নাটোরে ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ হারিয়েছেন জার্মান পর্যটক কিরিল লেন্ডার উইবার। হারানো জিনিসপত্র উদ্ধারের আশায় তিনি বর্তমানে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। তবে জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
কিরিল বলেন, ‘ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই আমার প্রথম সফর। সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।’
জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন কিরিল। এ সময় তিনি নিজের জিনিসপত্র এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। টাকা তুলে ফিরে এসে কিরিল দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই।
পরে কিরিল জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা নন। ব্যাগে তার ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ছিল। ঘটনার পর নাটোর থানায় বিষয়টি জানান তিনি। পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান কিরিল।
তিনি বলেন, ‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। তবে আশা করছি, আমার জিনিসপত্র ফিরে পাব।’
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন কিরিল। এর আগে বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর কিরিল নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
তিনি জানান, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় শনাক্ত হয়। পরে রাত ১১টার দিকে কিরিল রাজশাহীতে এলে ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও তত্ত্বাবধায়কদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে ল্যাপটপটির অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে সেটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।
ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা যায়নি।
পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র দ্রুত ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।