শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ড. ইউনূসের পদত্যাগ ভাবনায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

ড. ইউনূসের পদত্যাগ ভাবনায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ড. ইউনূসের পদত্যাগ ভাবনায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

১০ মাস না যেতেই মারাত্মক সংকটে পড়েছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এবার শোনা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস পদত্যাগের চিন্তা করছেন। তার এমন ভাবনায় সরকারের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। তবে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্বাচনের রোডম্যাপ বা নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের তারিখ ও রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি আন্দোলনে নামে এবং ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা আটদিন আন্দোলন চালায়। যদিও হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার (২২ মে) ইশরাকের বিষয়ে রিট খারিজ করে দেন এবং বিএনপি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপ – সবকিছু মিলিয়ে ড. ইউনূস দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনি তার পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন। রাতেই এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের কথা ভাবছেন।

ড. ইউনূস তার পদত্যাগ ভাবনার পেছনে রাজনৈতিক চাপ, আন্দোলন, বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ, তাকে নিয়ে "দেশ বিক্রির" অভিযোগ এবং নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির চাপকে দায়ী করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে শুক্রবার (২৩ মে) ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না। তিনি বলেন, “স্যারের ক্ষমতা দরকার নেই, কিন্তু শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য উনার দরকার আছে।”

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বসীমা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে। সরকার সংস্কার, বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া, রাখাইনে মানবিক করিডোর ইস্যুতে জড়িত হওয়াকে দায়িত্ব অতিক্রম হিসেবে দেখছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, “সরকার এমন দায়িত্ব নিচ্ছে, যেটা তাদের নেওয়ার কথা ছিল না। ফলে সংকট বাড়ছে।”

বিএনপি বলছে, ড. ইউনূসের পদত্যাগ তাদের দাবি নয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা শুধু রোডম্যাপ চাই।”

তবে রোডম্যাপ না এলে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর থেকে বিএনপির সমর্থন উঠে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, বিএনপি সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে দলটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও সংকটের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন না হলে তা মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা শুধু নির্বাচন নয়, সংস্কার ও বিচার নিয়েও দায়িত্ব নিয়েছি, কিন্তু তাও পালন করতে পারছি না।”

সবমিলিয়ে, রাজনৈতিক চাপ, জনআন্দোলন এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সংকটে পড়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তার পদত্যাগ ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী?