সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ফজরের পর ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে এখন আর দেখা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

ফজরের পর ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে এখন আর দেখা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ফজরের পর ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে এখন আর দেখা যায় না: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি সরকার গঠনের পর ফজরের নামাজের পর রাস্তা পরিষ্কার করতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দেখা গেলেও এখন আর তা চোখে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের আধুনিকায়নকাজের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম কয়েক দিন ফজরের নামাজের পর কিছু মানুষকে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তবে এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে কাজে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মিরপুরের একটি সড়ক পরিষ্কারে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত ওই এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেবেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানীং বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে দেশকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি হলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।


তিনি আরও বলেন, জুলাই ও একাত্তরের শহীদদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন—দেশের মানুষ যেন সুশিক্ষা পায় এবং সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফিরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এ দেশের মানুষও ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি যেভাবে একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করে, একইভাবে জুলাইয়ের চেতনাকেও ধারণ করে।


জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই।


সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই জনগণ সরকার ও বিরোধী দলকে সংসদে পাঠিয়েছে। জনগণ দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তাই রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানান তিনি।


এ সময় শনিবার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টারে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো হলেও হাসপাতাল ও সরকারি কোয়ার্টারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।


সরকারি কর্মকর্তারা নিজেরা পরিবেশের বিষয়ে সচেতন না হলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।