আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আপিলে বিলম্ব মার্জনাযোগ্য: হাইকোর্ট
সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ফাইল চালাচালির কারণে দেওয়ানি মামলার আপিল দায়েরে বিলম্ব হলে, তা যথেষ্ট কারণ হিসেবে বিবেচনা করে মার্জনা করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি মামলায় আপিল দায়েরে ১৬৮ দিনের বিলম্ব মার্জনা করে এ সিদ্ধান্ত দেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গত রোববার (১৭ অক্টোবর) রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালে শফিকুল ইসলাম লালমনিরহাটের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর আদালত মামলাটিতে বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে নির্ধারিত সময়ের পর ১৬৮ দিন বিলম্বে আপিল দায়ের করায় তামাদি আইনের ৫ ধারায় বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে সংস্থাটি।
পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না থাকার কারণ দেখিয়ে ২০০৪ সালের ১ আগস্ট জেলা জজ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
পরে বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের একক বেঞ্চ নিম্ন আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনি নীতিমালা পর্যালোচনা করে রায় দেন।
রায়ে আপিল বিভাগের বিভিন্ন নজির উল্লেখ করে আদালত বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আইনি পরামর্শ গ্রহণ, ফাইল অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এসব আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট বিলম্বকে ইচ্ছাকৃত বলা যায় না। তাই এ ধরনের বিলম্ব তামাদি আইনের অধীনে মার্জনাযোগ্য ‘যথেষ্ট কারণ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগ জেলা জজ আদালতের ২০০৪ সালের ১ আগস্টের আদেশ বাতিল করে বাংলাদেশ রেলওয়ের আপিল দায়েরে ১৬৮ দিনের বিলম্ব মার্জনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ দিয়ে দ্রুততম সময়ে ২০০৪ সালের আপিলটি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আপিল আদালতকে নির্দেশ দেন।