‘সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়াকর্মীরা’ মন্তব্য, ক্ষমা চাইলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কেয়ামতের ময়দানে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়াকর্মীরা’—এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান। পরে নিজের পোস্ট মুছে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্যে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টের বিষয়টি সামনে আসে।
পরে আরেকটি পোস্টে ডা. মিজানুর রহমান লেখেন, কেয়ামতের ময়দানে সবচেয়ে বেশি কারা জাহান্নামে যাবে, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। নিজের আগের পোস্টটি মুছে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্যে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রথমে ফেসবুকে দেখেছিলেন তিনি। প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছিল, ওই দুজন স্বামী-স্ত্রী এবং বিয়ের পর হানিমুনের অংশ হিসেবে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, একটি মসজিদে নামাজ পড়ার পর তাঁরা একে অপরের কপালে চুমু দেন। এ সময় এক পাকিস্তানি নাগরিক তাঁদের ভিডিও ধারণ করে সৌদি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে তিনি জানতে পারেন। ঘটনাটি তাঁকে ব্যথিত করেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় ও সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হতে দেখেন তিনি। কিছু প্রতিবেদনে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী না বলে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের কাবা শরিফের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী খবর দেখে তিনি বিভ্রান্ত ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেই পরিস্থিতিতে অবচেতন মনে সকাল ৮টার দিকে ফেসবুকে প্রথম পোস্টটি দিয়ে ফেলেন।
পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর মন্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন বুঝতে পেরে পোস্টটি মুছে দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপরও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী বলে জানান তিনি।