টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় সুরাটে অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১০
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে ভারতের গুজরাটের সুরাট থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সুরাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
তদন্তকারীরা জানান, অস্ত্রের সরবরাহপথ অনুসরণ করে সুরাটের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পান তাঁরা। সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা ও ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা গুলির খোসার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেলে আসা অন্তত দুই ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও তাঁর গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেল পরে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিতকে এ ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ১৮ অক্টোবরের হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন। তাঁকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
এদিকে, পৃথক এক ঘটনায় মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ বাংলোসহ কয়েকটি স্থানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহন্মুম্বাই পৌর করপোরেশনের সদর দপ্তরে মেয়র ঋতু তাওড়ের কার্যালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকিটি পাঠানো হয়। এতে পৌর করপোরেশনের কয়েকটি কার্যালয়, একাধিক পৌর বিদ্যালয় এবং আগামী ২৭ নভেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টের আয়োজনস্থলকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ই-মেইলটির প্রেরক ১৯৮৪ সালের ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। বার্তায় ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী সহিংসতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘খুন দা বদলা খুন’—অর্থাৎ ‘রক্তের বদলা রক্ত’—বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-মেইলে ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মুম্বাই পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ই-মেইলটির বিষয়বস্তু যাচাই করছে এবং উল্লেখ করা স্থানগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন করছে।
তবে হুমকিতে উল্লেখ করা হামলাগুলো বাস্তবে ঘটেছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।