বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ইসরায়েলের নির্বাচন তদন্তের নির্দেশ, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ইসরায়েলের নির্বাচন তদন্তের নির্দেশ, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ইসরায়েলের নির্বাচন তদন্তের নির্দেশ, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদ এ অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোআম সোলবার্গ।


বার্তা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে দায়িত্ব দিয়েছেন সোলবার্গ।


তাঁর সন্দেহ, ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বিদেশি পক্ষগুলো অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।


জিনিকে পাঠানো চিঠিতে সোলবার্গ বলেন, বিদেশি পক্ষের অর্থায়নে নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়ে তিনি গুরুতর সন্দেহের তথ্য পেয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ রয়েছে কি না, তা শিন বেতকে নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে যাচাই করতে বলেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষায় এ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সোলবার্গ।


### নেতানিয়াহুর অভিযোগ


নেতানিয়াহুর অভিযোগ, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এসব দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি কামনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।


নেতানিয়াহুর দাবি, তাঁর দল লিকুদ শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশের পাশাপাশি শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দিচ্ছে।


ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রে রাআম দলের প্রচারপত্রের সঙ্গে নগদ অর্থ বিতরণ, ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের হুমকি ও মারধর, গোপন কক্ষে একাধিকবার ভোট দেওয়া, ভুয়া পরিচয়ে ভোটদান এবং ব্যালটের খাম ও নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যায় অসংগতি। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।


### সরকার গঠন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা


নির্বাচনের পর ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট—কোনোটিই এককভাবে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাচ্ছে না।


পূর্বাভাসে লিকুদ ২৬টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। তবে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম, শাস ও ওৎজমা ইয়েহুদিতসহ নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে তারা আটটি পিছিয়ে রয়েছে।


অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের বেয়াখাদ, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস নিয়ে গঠিত বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা হতে পারে ১৯।


### সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলো


কোনো পক্ষ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোট ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী জোটকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রাথমিক আসনসংখ্যার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিরোধী ও আরব দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে সরকার গঠনের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে তদন্তের ফলাফল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা—দুই বিষয়ই ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ সরকার গঠন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।