শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › ঢাকা প্রতিদিন › নিখোঁজের আগে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা, হাসিখুশি ছিলেন তাহসিফ: বাবা

নিখোঁজের আগে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা, হাসিখুশি ছিলেন তাহসিফ: বাবা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নিখোঁজের আগে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা, হাসিখুশি ছিলেন তাহসিফ: বাবা

বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া পাইলট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। নিখোঁজ হওয়ার দিন তাহসিফ মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছেন এবং হাসিখুশি ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই বাবা।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কে এম এনায়েতুল করিম।


তিনি মনে করেন, সরকারি তদন্তের মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা এবং এর পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। তাঁর ভাষ্য, একজন পাইলট দেশের সম্পদ। কী উদ্দেশ্যে এবং কোন চক্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।


### নিখোঁজ হওয়ার দিন কী ঘটেছিল


তাহসিফের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন ছেলে তাঁর মায়ের সঙ্গে সারাদিন কেনাকাটা করেছিলেন। সে সময় তাঁকে হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। তাই ছেলের মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি।


তাহসিফ কোনো ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন কি না, কিংবা মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পরিবারের কিছু জানা নেই বলে জানান কে এম এনায়েতুল করিম। চাকরি চলে যাওয়ার পর ছেলে কোনো আশঙ্কার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি না বলেন।


### বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ


ছেলের নিখোঁজ হওয়ার দিনের ঘটনা তুলে ধরে তাহসিফের বাবা বলেন, দ্বীপ নামে তাঁর এক বন্ধু বাসায় এসে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে যান। তখন মাকে তাহসিফ জানিয়েছিলেন, নিচে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।


তাহসিফের বাবা আরও জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে একটি কণ্ঠবার্তা পেয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে তাহসিফ বাড়ি ফেরার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি। রওনা হইছি, আসতেছি।’


### বন্ধুর বক্তব্যের পরও নানা প্রশ্ন


তাহসিফের বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁদের পরিচয় ছিল বলে জানান কে এম এনায়েতুল করিম। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ওই বন্ধুর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ জানিয়েছেন, আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি তাহসিফের সঙ্গে তাঁদের বাসার চত্বরেই ছিলেন। তবে এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।


ছেলের মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাহসিফের বাবা। দাফন-কাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।


তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।