শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন-রুট-চার্জিংয়ে মানতে হবে যেসব নিয়ম

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন-রুট-চার্জিংয়ে মানতে হবে যেসব নিয়ম

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন-রুট-চার্জিংয়ে মানতে হবে যেসব নিয়ম

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা বা ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এতে নিবন্ধন, নবায়ন ফি, গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের রুট, পার্কিং ও ব্যাটারি চার্জিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ


নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এর বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা।


অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা।


প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর, নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক দেওয়া হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর।


একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।


সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার


ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হবে।


বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, ই-রিকশার হর্নের শব্দের তীব্রতা ৪০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।


জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডোর, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়ক ও ফুটপাতে ই-রিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে।


এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য গাড়িকে অতিক্রম এবং অনিয়ম করে লেন পরিবর্তন করা যাবে না।


জোনভিত্তিক রুট ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা


ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের সড়ক ও নির্দিষ্ট রং ঠিক করা হবে।


এক জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা উপযুক্ত স্থানে ই-রিকশার জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ব্যাটারি চার্জিংয়েও নির্দেশনা


নতুন বিধিমালায় ব্যাটারি চার্জিংসহ ই-রিকশার পরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা রাখা হয়েছে। এসব নিয়মের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নতুন বিধিমালার আওতায় ই-রিকশার মালিক ও চালকদের নিবন্ধন, নির্ধারিত রুট, গতিসীমা এবং অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।