মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ২০ জনের বেশি নাবিককে হত্যার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

২০ জনের বেশি নাবিককে হত্যার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
২০ জনের বেশি নাবিককে হত্যার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

গত কয়েক মাসে সমুদ্রে বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ২০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইরান—এমন অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগও তুলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক এই কমান্ড।


সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ জানায় সেন্টকম। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।


ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কখনো হামলা চালায়নি—আরাঘচির এমন বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে সেন্টকম। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নির্বিচার আগ্রাসন স্পষ্ট এবং কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়।


তবে ২০ জনের বেশি নাবিক নিহত হওয়ার দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিবরণ, সংশ্লিষ্ট জাহাজের নাম কিংবা হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণের পদ্ধতি তুলে ধরেনি সেন্টকম।


যুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আরাঘচি। গত মার্চে আল-আরাবি আল-জাদিদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরান কোনো আবাসিক বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি। কোন কোন স্থানে হামলা হয়েছে, তা যাচাই করতে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি।


আরাঘচির দাবি, ইরান আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে না; বরং ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।


### নাবিক নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য


আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, যা সরাসরি সেন্টকমের দাবির সঙ্গে মেলে। বার্তা সংস্থা এএফপির ২৫ আগস্টের এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব তুলে ধরা হয়।


ওই হিসাব অনুযায়ী, ছয় মাসের যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় ৬৮টি ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।


তবে এসব ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা নির্দিষ্ট করেনি আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্রের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউএসএনআই নিউজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থার এই হিসাবের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের হামলার ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


এর আগে গত মে মাসে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলায় অন্তত ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।


অন্যদিকে, ইরানের বণিক নাবিক ইউনিয়ন আলজাজিরাকে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে ইরানের বন্দর ও জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির অন্তত ৪৪ জন নাবিক, জেলে ও ডককর্মী নিহত হয়েছেন।


### উপসাগরীয় দেশগুলোরও অভিযোগ


উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে জ্বালানি অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপকতা দেশটির শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক নাগরিক, অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছিল সৌদি আরব।


এদিকে, গত মার্চে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানা হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে কট্টরপন্থিদের সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করেন বলে গালফ কান্ট্রিজ মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


সমুদ্রপথে জাহাজে হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। রোববার সৌদি আরবের রাস আল-খাফজি বন্দরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্রের প্রকাশিত মানচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্যালোচনা করা সূত্রগুলোতে এ ঘটনায় কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানো যায় কি না, তা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যেই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।