গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে পরীমনি, আত্মসমর্পণ করে চাইলেন জামিন
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান। তবে আদালতে শুনানির সময় না পাওয়া পর্যন্ত নিজস্ব গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন তিনি। এ সময় তার গাড়ির চারপাশে কয়েকজন দেহরক্ষীকে দেখা যায়।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। এ মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আদালত সময় দিলেই তিনি এজলাসে উপস্থিত হবেন। তার জামিন মঞ্জুর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আইনজীবী।
এর আগে বুধবার পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই নাসির উদ্দিন ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে তারা ক্লাবের ভেতরে অবস্থান করে মদ্যপান করেন। রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগী ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাকে ডেকে বসতে বলেন।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরীমনি একটি দামি বিদেশি মদের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য নাসির উদ্দিনকে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমনি একটি গ্লাস ও নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোন নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পান। পাশাপাশি মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
অন্যদিকে, ওই ঘটনার পর পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
নোট: মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনাগুলো অভিযোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; এগুলো আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচ্য নয়।