বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হোম › রাজনীতি › এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। দলের নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা এই নেত্রী আদর্শিক ও সাংগঠনিক নানা বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দল ছাড়ার কারণও তুলে ধরেন।


পদত্যাগপত্রে এনসিপি ছাড়ার পেছনে চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন সামান্তা শারমিন। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা, নির্বাচনী কৌশলে স্বকীয়তা বিসর্জন, গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদান উপেক্ষা এবং দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব।


জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ও সংস্কারের রাজনীতি থেকে বিচ্যুতি


সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই জামায়াতে ইসলামী এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। এ বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও দলটি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। এতে এনসিপি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান হারিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।


তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোর প্রকৃত সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসী নয়।


নির্বাচনী কৌশলে স্বকীয়তা বিসর্জন


পদত্যাগপত্রে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে পুরোনো বড় রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।


সামান্তার ভাষ্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচনে পরিণত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব ও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরির বদলে সাময়িক নির্বাচনী সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদান উপেক্ষার অভিযোগ


২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সম্মুখসারির ভূমিকা থাকলেও বিজয়ের পর এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেনি বলে অভিযোগ করেছেন সামান্তা শারমিন।


তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দল পরিচালনার পাশাপাশি রক্ষণশীল ও নারীবিরোধী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।


দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব


দলের অভ্যন্তরীণ অগণতান্ত্রিক পরিবেশকেও পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সামান্তা। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে গণতান্ত্রিক কাউন্সিল আয়োজন না করে বারবার আহ্বায়ক কমিটির পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং ভিন্নমত দমন করা হয়েছে।


এ ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তৃণমূলের মতামত নিশ্চিত করার মতো গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।