বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হোম › রাজনীতি › আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: রিজভী

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই দেশের সমৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত। চীনা প্রতিনিধিদলের এই সফর দুই দেশ ও দুই রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং স্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন।


তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বদ্ধপরিকর। এ নীতির লক্ষ্য হলো সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখা।


চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ওই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সুফল ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


বৈঠকে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বিএনপির দৃঢ় সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্বে একটিই চীন এবং তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল।


বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, বস্ত্র, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ওষুধশিল্পে চীনের বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।


বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানির সম্ভাব্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।


এ ছাড়া শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও চীনের সহযোগিতা কামনা করেন বিএনপির এই নেতা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করতে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে।