শনিবার , ০৭ নভেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৭ নভেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › কাশ্মিরে জাফরানের আবাদ কমেছে, কাশ্মিরি পরিচয়ে ইরানি জাফরান বিক্রির অভিযোগ

কাশ্মিরে জাফরানের আবাদ কমেছে, কাশ্মিরি পরিচয়ে ইরানি জাফরান বিক্রির অভিযোগ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কাশ্মিরে জাফরানের আবাদ কমেছে, কাশ্মিরি পরিচয়ে ইরানি জাফরান বিক্রির অভিযোগ

কাশ্মিরের শ্রীনগরের পুরোনো বাজারে পর্যটকদের ভিড়। আখরোট, মসলা ও শুকনো ফলের দোকানগুলোতে চলছে বেচাকেনা। এরই মধ্যে কাশ্মিরি জাফরান কিনতে চাইলে এক দোকানি কাউন্টারের নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো ছোট একটি স্টিলের কৌটা বের করেন। ভেতরে ছিল কয়েকটি গাঢ় লাল সুতার মতো জাফরান।


দোকানির দাবি, এটি পাম্পোরের আসল কাশ্মিরি জাফরান। এ বছর উৎপাদন কম হওয়ায় এর সরবরাহও সীমিত। পরে তিনি আরেকটি বয়াম দেখিয়ে জানান, সেটি ইরানি জাফরান। তাঁর অভিযোগ, অনেক বিক্রেতা ইরানি জাফরানকে কাশ্মিরি পরিচয়ে বিক্রি করছেন। অধিকাংশ ক্রেতার পক্ষে দুই ধরনের জাফরানের পার্থক্য বোঝা কঠিন। কখনো কখনো অন্য ফুলের উপাদান ও রং মেশানোর অভিযোগও পাওয়া যায়।


দোকানির মতে, মান ও দামের দিক থেকে কাশ্মিরি জাফরান ইরানি জাফরানের চেয়ে উন্নত।


পাহাড়ি অঞ্চল কাশ্মির যুগ যুগ ধরে জাফরান উৎপাদনের জন্য পরিচিত। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও এই মূল্যবান মসলার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের খাবার, দুপুরের নুন চা, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও সুগন্ধি তৈরিতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে এটি উপত্যকার অন্যতম মূল্যবান রপ্তানি পণ্য।


সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জাফরান সংগ্রহের মৌসুম চলে। এ সময় কারেওয়া মালভূমি বেগুনি ক্রোকাস ফুলে ছেয়ে যায়। ভোর হওয়ার আগেই কৃষক পরিবারের সদস্যরা বেতের ঝুড়ি নিয়ে মাঠে নেমে ফুল সংগ্রহ করেন। তবে গত বছর থেকে জাফরানের মাঠে ফুলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।


এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি প্রায় দেড় কেজি জাফরান পেয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫০ গ্রামের মতো। তাঁর মতে, জাফরান চাষ অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনীয় সময়ে বৃষ্টি না হলে ফুলের উৎপাদন দ্রুত কমে যায়।


জাফরান উৎপাদিত হয় ‘ক্রোকাস স্যাটিভাস’ নামের একটি উদ্ভিদ থেকে। প্রতিটি ফুলে থাকে তিনটি লাল পরাগদণ্ড। ভোর হওয়ার আগেই ফুল থেকে হাতে সেগুলো সংগ্রহ করে কয়েক ঘণ্টা শুকানো হয়।


এক আউন্স বা প্রায় ২৮ গ্রাম জাফরান উৎপাদন করতে প্রায় চার হাজার ফুল প্রয়োজন হয়। বছরে মাত্র দুই থেকে চার সপ্তাহ এই গাছে ফুল ফোটে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার শ্রমসাধ্যতা ও সীমিত সরবরাহের কারণে জাফরানকে বলা হয় ‘লাল স্বর্ণ’।