শনিবার , ০৭ নভেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৭ নভেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর, বাধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর, বাধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর, বাধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে শেষ মুহূর্তে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসায় দেশটির হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেন নেতানিয়াহু এবং তার ঘনিষ্ঠ মোসাদপ্রধান রোমান গফম্যান। তবে ইসরাইলের নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে এ পরিকল্পনায় সমর্থন দেননি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের হামলা বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।


তবে বিরোধিতা সত্ত্বেও সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল। শেষ মুহূর্তে ইসরাইলের এক নিরাপত্তাকর্মীর ভুলের কারণে পরিকল্পনার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ওয়াশিংটন এবং অভিযানটি নস্যাৎ করে দেয়।


ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের কঠোর নজরদারির মধ্যেই চ্যানেল ১২ প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে কোনো হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সে সময় বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।


সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর


নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। গত ২৫ অক্টোবর চ্যানেল ১২ জানায়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সেই নির্দেশ নিয়ে ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির ওই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে লিখিত আইনি অনুমোদনও দাবি করেন তিনি।


এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ওই পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারত।


অন্যদিকে, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেন। তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, সম্প্রতি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মোসাদকে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য


এদিকে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান।


নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, আলোচনার ফলে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প চান, ইসরাইল যেন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাস্ত করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে তাদের পরিস্থিতি ভালো। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। গত ছয় থেকে সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


এ ছাড়া নিজের মধ্যস্থতা না থাকলে ইসরাইলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।