আয়করে ৫০টির মতো পরিবর্তন, কর কাঠামো সহজ ও আধুনিক করার উদ্যোগ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর ব্যবস্থায় প্রায় ৫০টি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে গতি আসবে এবং কর কাঠামো আরও স্পষ্ট ও সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণ করদাতাদের জন্য ন্যূনতম আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা, আর নতুন করদাতাদের জন্য তা ১ হাজার টাকা। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আগের ধাপভিত্তিক কর স্ল্যাব বাতিল করে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হার নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিখাতে কর ব্যবস্থা:
কৃষি আয় যদি বছরে ৫ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে সেটির ওপর কর আরোপ করা হবে। তবে কৃষিপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎস কর হার কমানো হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে।
সম্পদ হস্তান্তর ও পারিবারিক কর সুবিধা:
আপন ভাইবোনের মধ্যে সম্পদ দান করমুক্ত রাখার প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত করের পরিমাণ পরবর্তী বছরগুলোতে সমন্বয় করা হতে পারে।
ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তন:
ব্রোকারেজ হাউজের ওপর উৎস কর হ্রাস এবং মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর ১.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবার ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের চিন্তাভাবনাও রয়েছে।
রিটার্ন জমা ও অন্যান্য কর বিষয়ক সিদ্ধান্ত:
১২টি সেবায় আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ দাখিলের শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। ১৫২টি পণ্যের আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ধার্য করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, তবে রিটার্ন জমা দেন মাত্র ৪৫ লাখ করদাতা। নতুন বাজেটের এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে করদাতা বাড়ানো এবং কর প্রশাসন আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।