সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্তকৃত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলার অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে।
রবিবার (১ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর করে এবং সব দণ্ডিতের করা আপিল খারিজ করে রায় প্রদান করে।
যারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন তারা হলেন— বরখাস্ত এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
অপরদিকে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও মো. আব্দুল্লাহ।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে নেতৃত্ব দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম সরকারসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহানসহ একাধিক আইনজীবী।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এর পাঁচদিন পর তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতসহ নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে র্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার শুরু হয় ২০২১ সালের ২৭ জুন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টে অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সেই ডেথ রেফারেন্সসহ আপিলের শুনানি শেষে আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে আলোচিত সিনহা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।