শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › রূপপুরে সময় বাড়ল, খরচ নয়: চুক্তি সংশোধন

রূপপুরে সময় বাড়ল, খরচ নয়: চুক্তি সংশোধন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রূপপুরে সময় বাড়ল, খরচ নয়: চুক্তি সংশোধন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সময়সীমা আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে না।


গত ২০ জুন প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে একটি সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


মূল চুক্তিতে প্রথম ইউনিটের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ ২০২৪ সালের অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।


প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মত দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে আরও ছয় মাস যোগ করে মন্ত্রণালয় মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ায়। তবে রাশিয়ান ঠিকাদারদের মতে, কারিগরি বাস্তবতায় ওই সময়ের মধ্যেও প্রকল্প শেষ করা সম্ভব নয়।


প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন জানান, “নতুন করে কোনো দেরি হয়নি। এখন কাজ স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে। অতীতে করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আশা করছি, আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হবে।”


প্রকল্পের অর্থায়নে প্রতিবছর বরাদ্দ অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয় বাংলাদেশ সরকারকে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ পরিশোধ সম্ভব হয়নি।


চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারবে না রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়মতো উৎপাদন শুরু না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি আয় করতে পারছে না। ফলে সরকারকে পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়িয়ে দেবে।