লোভনীয় অফারেও গ্রাহক ধরে রাখতে ব্যর্থ মোবাইল অপারেটররা
দিন দিন মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমছে, আর এর প্রভাব পড়ছে মোবাইল অপারেটরদের আয়ে। একাধিক লোভনীয় অফার দিয়েও গ্রাহক ধরে রাখতে পারছে না তারা। সেবাদানকারী কোম্পানিগুলোর দাবি—সিম ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতিই এর মূল কারণ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৯৭ লাখ। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল শেষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬৫ লাখে—এক বছরে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে মোবাইল অপারেটররা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শফিকুল বলেন, “আগে মোবাইলে ইন্টারনেট কিনে ভালোই লাগত, এখন আগের সেই দামে ডাটা পাওয়া যায় না। তাই বাসার ব্রডব্যান্ডেই নির্ভর করছি।”
চাকরিজীবী রফিক বলেন, “বাসা ও অফিস দুজায়গাতেই ব্রডব্যান্ড আছে। এছাড়া বাইরে কাজেও ব্রডব্যান্ড সুবিধা মেলে। মোবাইল ডাটার দাম এত বেশি যে এখন আর কিনতেই ইচ্ছে করে না।”
গ্রাহক কমার এই ধাক্কায় আয়েও ভাটা পড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে গ্রামীণফোন আয় করেছে ৩,৮৩৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম। রবি জানিয়েছে, তাদের ভয়েস আয় কমেছে ০.৭ শতাংশ এবং ডাটা আয় ১১.৪ শতাংশ। বাংলালিংক এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেনি।
রবির করপোরেট ও রেগুলেটরি বিভাগের প্রধান সাহেদ আলম বলেন, “সিম ট্যাক্স বেড়ে যাওয়ায় আমরা আগের মতো ভর্তুকি দিতে পারছি না।”
গ্রামীণফোনের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান তানভীর মোহাম্মদ বলেন, “যেসব নেগেটিভ বাধা রয়েছে—যেমন সিম কর—তা যদি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হতো, তবে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হতো।”
এদিকে, যখন মোবাইল অপারেটররা গ্রাহক হারাচ্ছে, তখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ। বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৩ লাখ। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে ইন্টারনেট গ্রাহক এখন ১৩ কোটিরও বেশি।
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “মোবাইল ইন্টারনেটের সার্ভিস কোয়ালিটি দিন দিন কমছে, এ কারণেই মানুষ আবার ব্রডব্যান্ডে ফিরে আসছে।”