বুধবার , ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার , ১৫ এপ্রিল ২০২৬
হোমতথ্যপ্রযুক্তিভোটের আগের দিন ‘সাইবার যুদ্ধ’, গুজব ও অপতথ্যে সরব বট বাহিনী

ভোটের আগের দিন ‘সাইবার যুদ্ধ’, গুজব ও অপতথ্যে সরব বট বাহিনী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ভোটের আগের দিন ‘সাইবার যুদ্ধ’, গুজব ও অপতথ্যে সরব বট বাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগের দিন মাঠের প্রচারণা শেষ হলেও অনলাইনে শুরু হয়েছে তীব্র ‘সাইবার যুদ্ধ’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন প্রার্থী ও রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে চরিত্রহননমূলক প্রচার চালানোর পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার প্রবণতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। বট বাহিনী বলতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা সমন্বিতভাবে পরিচালিত ভুয়া অ্যাকাউন্টের এমন একটি নেটওয়ার্ককে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একযোগে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে কোনো কনটেন্ট দ্রুত ভাইরাল করে তোলে।


বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই ধরনের মন্তব্যের বন্যা, নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগের একযোগে ব্যবহার এবং সন্দেহজনক নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত শেয়ার—এসবই বট কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।


ইতোমধ্যে একাধিক ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে প্রচারিত একটি ভিডিওতে ভোটের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার দাবি করা হলেও যাচাইয়ে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি এবং ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো হয়েছে। একই ধরনের ভিডিও একাধিক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের নামে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ড এবং সম্পাদিত পুরোনো ছবি ব্যবহার করেও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।


রাজধানীর পূর্বাচলে ‘নৌকা নাই ভোটও নাই’ লেখা একটি গ্রাফিতির ছবি ভাইরাল হলেও পরে সেটি পুরোনো ছবির সম্পাদিত সংস্করণ হিসেবে শনাক্ত হয়। এছাড়া নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে—এমন ভুয়া খবরের ভিডিও টিকটকে প্রায় ১২ লাখবার দেখা হয়েছে, যদিও সরকার এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেয়নি।


সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, নির্বাচনের আগে মাঠের প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেলে অনলাইনে তথ্যযুদ্ধ বাড়ে। বট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো, কেন্দ্র দখলের গুজব ছড়ানো কিংবা ভুয়া ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে ফেসবুকে, এরপর ইউটিউব ও টিকটকে।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু সরকার বা প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট এড়িয়ে চলার মাধ্যমেই এই সাইবার অপপ্রচারের প্রভাব কমানো সম্ভব।