বিদেশি মালিকানা সীমিতকরণে মোবাইল অপারেটরদের আপত্তি
দেড় দশক পর টেলিকম খাতে নতুন নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। বিএনপির উদ্বেগ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়, আর এবার মোবাইল অপারেটররাও যোগ দিয়েছেন সমালোচকদের কাতারে।
নতুন খসড়া টেলিকম নীতিমালায় মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিতে বিদেশি মালিকানার সীমা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অন্যান্য অপারেটরদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫৫ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা নিয়েই মূল আপত্তি।
বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৫৫.৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে নরওয়ের টেলিনরের হাতে, বাকি অংশ দেশীয় মালিকানায়। রবির ৯০ শতাংশ মালিকানা মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপের, আর বাংলালিংকের ১০০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ভিওনের কাছে।
নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে রবিকে ৫ শতাংশ এবং বাংলালিংককে ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া যেতে পারে, তবে বাজারের সক্ষমতা যাচাই না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া যৌক্তিক নয়।
এই প্রস্তাবনার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে টেলিনর, আজিয়াটা ও ভিওন। তারা বলছে, বিদেশি মালিকানা জোর করে সীমিত করার উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমাতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসা মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাকে দেখা হচ্ছে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হবে। এটি বিদেশি বিনিয়োগে বাধা নয় বরং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষা তৈরি করতেই সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ।”
বর্তমানে দেশে মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ মোবাইল সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ কোটির বেশি গ্রাহকই গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের সেবা নিচ্ছেন।
/এআই/