যুক্তরাষ্ট্রে ছয় হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্র ছয় হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। দেশটির আইন ভঙ্গ ও নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সময় শেষ হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন এবং আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রায় চার হাজার ভিসা সরাসরি আইন ভঙ্গের কারণে বাতিল হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা বাছাই করা হয়নি।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হামলা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ইত্যাদি অপরাধে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও চীন থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন।
গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক জানান, তিনি প্রায় প্রতিদিন ভিসা বাতিল করেন। বিশেষ করে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যখনই আমি এ ধরনের কাউকে পাই, আমি তাদের ভিসা বাতিল করি।” যদিও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সম্প্রতি দুটি মামলায় প্রশাসন ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে একটি মামলা ছিল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদ খলিলের বিরুদ্ধে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও জুনে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অন্য মামলাটি ছিল টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি ছাত্রী রুমেসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে। ইসরায়েলবিরোধী একটি নিবন্ধ লেখার অভিযোগে তাঁকে গত মে মাসে এজেন্টরা আটক করলেও আদালতের রায়ে তিনি মুক্তি পান।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কো রুবিও যুক্তি দেন, প্রশাসনের বিচারিক পর্যালোচনা ছাড়াই ভিসা প্রদানের বা বাতিল করার অধিকার রয়েছে। তাঁর দাবি, যারা মার্কিন নাগরিক নন, তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার মার্কিন সংবিধানের আওতায় পড়ে না।
সূত্র: বিবিসি