মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বনিট আন্দোলন: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ

নিট আন্দোলন: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নিট আন্দোলন: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও প্রকৃত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধারাবাহিক চাপ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আশ্বাস সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।


সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে সিজেপি। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়।


এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের মধ্যে সব আটক ব্যক্তিকে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিহার সরকার আন্দোলনে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির উদ্যোগের কথা জানায়। পরে আসাম সরকারও জানায়, সেখানে আন্দোলনসংক্রান্ত পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


এর ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারও প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলবে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর আটক রাখা হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।


এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি এসে অশান্তি সৃষ্টি করেছিলেন। পুলিশের তদন্তে অন্তত ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা সিজেপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সরকারের দাবি।


সরকার জানিয়েছে, প্রকৃত আন্দোলনকারী এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহারের উদ্যোগ থাকলেও সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


পরপর তিনটি রাজ্যে আন্দোলন-সম্পর্কিত মামলার বিষয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত সামনে আসায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।