৯০% আন্তর্জাতিক এসএমএস অবৈধ পথে আসছে, গোপনীয়তা ও রাজস্ব দুটিই ঝুঁকিতে
দেশের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো আন্তর্জাতিক এসএমএসের প্রায় ৯০ শতাংশই অবৈধ পথে আসছে, যার ফলে প্রতিবছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে রাজস্ব ক্ষতির চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এসব বার্তার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ চ্যানেল দিয়ে আসা এসএমএস নিরাপদ নয়। অপারেটররা সহজেই এসব বার্তা পড়তে পারছে, এমনকি ফেসবুক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো **ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি)**ও ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, “এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড, কোড, ওটিপি এসে থাকে। যদি বৈধ চ্যানেলে আনা না যায় তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”
বর্তমানে মোবাইল অপারেটররা আন্তর্জাতিক এসএমএস আদান-প্রদান করছে। তবে বিটিআরসি নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খাতকে আলাদা লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে প্রতিটি আন্তর্জাতিক এসএমএসের নিরাপত্তা ও শতভাগ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব আরও জানান, ভবিষ্যতে কোড আর এসএমএসের মাধ্যমে আসবে না, বরং মোবাইল অ্যাপের অথেন্টিকেটরের মাধ্যমে আসবে। তবুও বৈধ পথে এসএমএস চালু থাকলে সরকারের বিপুল রাজস্ব নিশ্চিত হবে।
আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ সেবা (আইএলডিটিএস) নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভয়েস কলের পাশাপাশি এসএমএস সার্ভিসও আইজিডব্লিউ (আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটররা) পরিচালনা করতে পারবে।
আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরামের (আইওএফ) সভাপতি আসিফ সিরাজ বলেন, “অবৈধ পথে এখনো এসএমএস আদান-প্রদান চলছে। তবে আন্তর্জাতিক চ্যানেলের অনুমোদন পেলেই আমরা সেবা শুরু করতে পারব। এতে সরকার প্রতিমাসে আটগুণ বেশি রাজস্ব পাবে।”
প্রযুক্তিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে আন্তর্জাতিক এসএমএস চালু হলে প্রতিমাসে সরকারের রাজস্ব আয় দুইশো কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে কেবল এ খাতেই বিদেশ থেকে আসা দুই থেকে আড়াই লাখ ডলার প্রবাসী আয় নষ্ট হচ্ছে।