শনিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › ঝিনাইদহে ‘হানি ট্র্যাপ’: অদৃশ্য ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ

ঝিনাইদহে ‘হানি ট্র্যাপ’: অদৃশ্য ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ঝিনাইদহে ‘হানি ট্র্যাপ’: অদৃশ্য ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ

ঝিনাইদহ শহরে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ‘হানি ট্র্যাপ’। শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই চক্রের অদৃশ্য আস্তানা। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে চলছে ব্ল্যাকমেইলের খেলা। চক্রটি কৌশলে মানুষকে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।


যেভাবে ফাঁদে ফেলে চক্রটি


ভুক্তভোগীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনে শুরু হয় সম্পর্ক। প্রথমে পরিচিতি, পরে কৌশলে প্রেম বা বন্ধুত্বের জালে ফাঁসানো হয়। একসময় নির্জন স্থানে দেখা করার প্রলোভন দেওয়া হয়।


দেখা করতে গেলে নিয়ে যাওয়া হয় ভাড়া করা বাসাবাড়ি বা আবাসিক হোটেলের কক্ষে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। শুরু হয় ভিডিও ধারণ ও হুমকি-ধমকি, এরপর দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।


সূত্র মতে, ঝিনাইদহ শহরের অন্তত পাঁচটি এলাকায় এই চক্র সক্রিয়। তাদের মূল টার্গেট ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীরা। রাজনৈতিক নেতা, অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও কথিত সাংবাদিকদের সহযোগিতায় চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ চালিয়ে আসছে।


ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা


সৌদি আরবফেরত এক প্রবাসী জানান, ফেসবুকে পরিচিত এক নারীর ফাঁদে পড়ে তিনি তিন দফায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবুও তার কাছে এখনো টাকা দাবি করা হচ্ছে।


শহরের এক চাকরিজীবীকে কৌশলে হোটেলে নিয়ে গিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ৫ লাখ টাকা আদায় করেছে চক্রটি। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।


স্থানীয় এক হোটেল ম্যানেজার বলেন, প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষ নিয়ে কয়েকজন নারী হোটেলে আসেন। সন্দেহ হলেও প্রমাণ না থাকায় কিছু করা যায় না। পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


সমাজের জন্য হুমকি


সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেন বলেন, “হানি ট্র্যাপ এখন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সামাজিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। এ চক্র নির্মূল না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”


পুলিশের অবস্থান


ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, “এটি শুধু অপরাধ নয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিটসহ একাধিক টিম এ নিয়ে কাজ করছে।”


তিনি আরও জানান, বাসাবাড়ি ও হোটেল মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, তাহলেই এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।