নেপোটিজমের ফলেই বলিউডে এসেছি’ — খোলামেলা স্বীকারোক্তি রণবীর কাপুরের
বলিউড তারকা রণবীর কাপুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি নেপোটিজম বা স্বজনপ্রীতির ফলেই চলচ্চিত্র জগতে এসেছেন। তবে নিজের জায়গা ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রমই তার সাফল্যের চাবিকাঠি— এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের ফিল্ম ইনস্টিটিউট হুইসলিং উডস আয়োজিত ‘সেলিব্রেট সিনেমা ২০২৫’ উৎসবে অংশ নিয়ে রণবীর কাপুর নেপোটিজমসহ নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
রণবীর বলেন, “আমি নেপোটিজমের ফলেই এসেছি, এটা সত্যি। আমার জীবনটা সহজ ছিল, তবে সফল হতে হলে আমাকে নিজের নাম, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হয়েছে। কাপুর পরিবারের সন্তান হয়েও যদি নিজেকে প্রমাণ করতে না পারতাম, তাহলে কেউ আমাকে গুরুত্ব দিত না।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ আমার পরিবারের সাফল্য উদযাপন করে, কিন্তু আমাদের অনেক ব্যর্থতাও আছে। যেমনটা সাফল্য থেকে শেখার আছে, তেমনি ব্যর্থতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া জরুরি।”
শৈশব ও পারিবারিক প্রভাবের কথা স্মরণ করে রণবীর বলেন, কাপুর পরিবারের সন্তান হিসেবে তার শৈশব ছিল স্বাভাবিক— “আমি কোনো বিশেষ সুবিধা পাইনি, বরং ছোটবেলা থেকেই সিনেমা তৈরির প্রক্রিয়া দেখে বড় হয়েছি।”
তিনি জানান, ছোটবেলায় দাদু রাজ কাপুরের বাসায় নিয়মিত যেতেন সংগীত পরিচালক, গায়ক ও গীতিকাররা— “তারা সিনেমার গানের শব্দ নিয়ে তর্ক করতেন, কিন্তু সেটি ছিল শিল্পচর্চার অংশ।”
অভিনেতা হিসেবে নিজের যাত্রা শুরুতে রণবীর কাজ করেন সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘ব্ল্যাক’ (২০০৫) সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে। তিনি বলেন, “বানসালি যখন দৃশ্য লিখতেন, আমি ভাবতাম যদি আমি এটি পরিচালনা করতাম, কীভাবে করতাম। তখনই বুঝেছি, প্রতিটি সিনেমার নিজস্ব ভাষা আছে— কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই।”
অভিনয়শিল্পীদের উদ্দেশে রণবীর বলেন, “একজন অভিনেতাকে হতে হবে নমনীয়। প্রতিটি পরিচালক গল্প বলার আলাদা উপায় ব্যবহার করেন। অভিনেতার কাজ হলো সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে পূর্ণতা দেওয়া।”
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ফিল্ম ইনস্টিটিউট এমন এক জায়গা, যেখানে স্বপ্ন ও উদ্যমের মিলন ঘটে। আমি একদিন অভিনয় প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে চাই, যাতে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির পাশাপাশি তরুণদের কাছ থেকেও নতুন কিছু শিখতে পারি।”
আগামীতে রণবীর কাপুরকে দেখা যাবে সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ এবং নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ সিনেমায়।
সূত্র: এনডিটিভি / ইন্ডিয়া টুডে