বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহে শোকের ছায়া

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহে শোকের ছায়া

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সন্দ্বীপের সাত প্রবাসীর মরদেহে শোকের ছায়া

ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সাত প্রবাসীর মরদেহ আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নিজ এলাকায় পৌঁছায়। সাতটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স একসঙ্গে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে পুরো দ্বীপজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।


গত ৮ অক্টোবর ওমানের দুখুম এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে সাতজনই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—আমিন সওদাগর (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮) ও মোশারফ হোসেন রনি (২৬)। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সারিকাইত ইউনিয়নের, একজন মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের এবং একজন সন্দ্বীপ পৌরসভার বাসিন্দা। অপর নিহত প্রবাসী আলাউদ্দিনের বাড়ি রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নে।


গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইটে মরদেহগুলো চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।


আজ সকাল ৭টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে সাতটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ সন্দ্বীপে নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ব সন্দ্বীপ ও সাউথ সন্দ্বীপ হাইস্কুল মাঠে সম্মিলিত জানাজার আয়োজন থাকলেও, ওমানে মরদেহের গোসল না হওয়ায় পরিবারের অনুরোধে পারিবারিকভাবে জানাজা সম্পন্ন করা হয়।


সারিকাইত ইউনিয়নের সাইয়েদ মার্কেট চত্বরে নিহত দুই বন্ধু বাবলু ও সাহাবুদ্দিনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে রকি, আরজু, আমিন সওদাগর, জুয়েল ও রনির জানাজাও নিজ নিজ এলাকায় সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের দাবি জানান। নিহত জুয়েলের বাবা জামাল হোসেন আবেগভরে বলেন, “যার কষ্টের টাকায় ভবন উঠছে, সে আর এই ভবনে ফিরবে না।”


সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “একসঙ্গে সাতজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীর জন্য গভীর শোকের বিষয়। আজ দ্বীপবাসীর জন্য এক শোকাবহ দিন।”


উপজেলা বিএনপি নেতা প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “সরকারি উদ্যোগে নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির সুযোগ দিতে হবে।