শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানিপণ্য ও রূপপুর প্রকল্পের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৫০টি কারখানার রপ্তানিপণ্য পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা রাশিয়া নির্মিত বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রায় ১৮ টন ওজনের সাতটি শিপমেন্ট ছয় দিন আগে রাশিয়া থেকে এসেছিল। তবে পরমাণু শক্তি কমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বিলম্ব হওয়ায় এসব পণ্য আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) খালাসের অপেক্ষায় ছিল। তার আগেই আগুনে পুড়ে যায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরঞ্জাম।
জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার বন্ড বহির্ভূত পণ্য খালাস বন্ধ থাকে। কেবল কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে আসা ডকুমেন্টস অর্ধদিবস খালাস হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে পুরো খালাস কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা তত্ত্বাবধান করে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব মু. রইচ উদ্দিন খান ও মো. তারেক হাসান, এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান।
অন্যদিকে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের শিল্পকারখানা, আমদানি-রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষতি করে জাতীয় অর্থনীতিকে অচল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটসহ সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেন। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।