জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশে ক্ষুব্ধ বিএনপি: ‘জাতীয় ঐকমত্য নয়, অনৈক্য সৃষ্টি’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, কমিশনের প্রস্তাব ঐক্যের পরিবর্তে জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সুপারিশের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় অনৈক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে।”
অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কমিশনের গণভোট প্রস্তাবকে অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবটি কমিশনের নিজস্ব মতামত হতে পারে, তবে বিএনপি এতে একমত নয়। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে দুটি আলাদা ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন করে জুলাই সনদ সামনে আনার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনারও প্রয়োজন নেই। বিএনপি শুরু থেকেই এই অবস্থানে আছে, ভবিষ্যতেও অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।”
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আমীর খসরু এসব মন্তব্য করেন।
এদিকে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “কমিশনকে ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই—অবশেষে তারা তাদের কার্যক্রম শেষ করতে পেরেছেন। তবে ধন্যবাদ দিচ্ছি আরেক কারণে, তারা জাতীয় ঐকমত্য নয়, বরং জাতীয় অনৈক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়েছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছি, তাতে ৮৪টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু দফায় বিভিন্ন দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ আছে। কিন্তু কমিশনের নতুন সুপারিশে সেসব ভিন্নমতের কোনো উল্লেখ নেই, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর।”
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, কমিশনের প্রস্তাবগুলো মূল সনদের কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজন আরও বাড়াবে।