সালমান শাহর মৃত্যু: আত্মহত্যা না হত্যা? ২৯ বছর পরও রহস্যের জট খুলেনি
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহ—যার আগমন ছিল যেন ধূমকেতুর মতো। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে একের পর এক হিট উপহার দেন দর্শকদের।
তবে তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়া আজও রহস্যের ঘেরাটোপে। এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি প্রায় তিন দশকেও। সালমানের মা নীলা চৌধুরীর দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি এ অভিযোগে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, আর তাঁর অভিযোগের মূল আঙুল উঠেছে সালমানের স্ত্রী সামিরা হকের দিকে।
সম্প্রতি সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে নীরবতা ভেঙেছেন সামিরা। তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের পর তাঁদের সংসার জীবন ছিল সুখের। “আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতাম। মনোমালিন্য হলে ইমন (সালমান) ভালোবাসা দিয়ে তা মিটিয়ে দিত,” বলেন তিনি।
সামিরার দাবি, সালমানের মা বিয়ের পর থেকেই তাঁকে অপছন্দ করতেন, কারণ এই বিয়েতে তাঁর পরিবারের সম্মতি ছিল না। তবে তিনি সবসময় নীলাকে শাশুড়ি নয়, মা হিসেবেই দেখতেন বলে জানান।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি নিয়ে সামিরা বলেন, “সেদিন ওর (সালমানের) সঙ্গে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। অভিমান করে সে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি অন্য রুমে ছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।” তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও সালমান তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন—যার রেকর্ড মেট্রোপলিটন হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।
সেদিনের পরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সামিরা বলেন, “আমাকে ওর শেষ মুখটাও দেখতে দেওয়া হয়নি। ইমনের মা আমাকে বাসা থেকে বের করে দেন, হাসপাতালে বা সিলেটে যেতে দেননি।”
সালমানের মা নীলা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেই ঘটনার সঙ্গে আলোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও সামিরা জড়িত। তবে সামিরা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে আমি ঠিকমতো চিনতামই না। আমার বিরুদ্ধে যা রটানো হয়েছে, সবই মিথ্যা।”
সামিরা আরও জানান, সালমানের বাবা প্রথমে এই মামলা ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে রমনা থানায় দায়ের করেছিলেন। পরে সালমানের মা এটি হত্যা মামলা হিসেবে দাবি করা শুরু করেন।
প্রায় ২৯ বছর পর, সম্প্রতি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমনা থানাকে। এ আদেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক।