বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › ময়মনসিংহ-নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্য গুদামে প্রকাশ্যে ‘বদলি বাণিজ্য’ — ঘুষের টাকায় হচ্ছে পদায়ন

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্য গুদামে প্রকাশ্যে ‘বদলি বাণিজ্য’ — ঘুষের টাকায় হচ্ছে পদায়ন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ময়মনসিংহ-নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্য গুদামে প্রকাশ্যে ‘বদলি বাণিজ্য’ — ঘুষের টাকায় হচ্ছে পদায়ন

ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে চলছে প্রকাশ্য ‘বদলি বাণিজ্য’। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ‘পারিবারিক সমস্যা’ দেখিয়ে জোরপূর্বক বদলি করানো হচ্ছে, আর পরে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন দেওয়া হচ্ছে।


অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অন্তত ছয়টি খাদ্য গুদামে অনিয়ম হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় খাদ্য পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম কামাল মধ্যস্থতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


খাদ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ‘পারিবারিক সমস্যা’ দেখিয়ে আবেদন লিখে নেওয়া হচ্ছে, কেউ রাজি না হলে প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বদলি ও পদায়নের জন্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়।


এমনকি নিয়মবহির্ভূতভাবে উপপরিদর্শককে পরিদর্শকের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া গুদামে, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।


আরও অভিযোগ আছে— দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, কেউ কেউ মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার বদলি হয়েছেন।


মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঘুষ ছাড়া কোনো পদায়ন এখন সম্ভব নয়। এতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে, খাদ্য পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম কামাল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে।”


খাদ্যসচিব মো. মাসুদুল হাসান জানান,


“একসঙ্গে এতজন কর্মকর্তার পারিবারিক সমস্যা রহস্যজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”