শনিবার , ০২ মে ২০২৬
শনিবার , ০২ মে ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার ঘোষণা ও তাদের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করার কোনো আইনগত অধিকার গভর্নরের নেই।


বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, দেশের পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


ভর্নর জানান, নতুন সমন্বিত ব্যাংকটির পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, গ্রাহকদের লেনদেন, রেমিট্যান্স, এলসি, চেক নিষ্পত্তি ও অন্যান্য সেবা আগের মতোই চলবে।


তবে শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য ঋণাত্মক হওয়ায় শেয়ারের মূল্য “শূন্য” বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দেন গভর্নর আহসান মনসুর। তিনি বলেন,


“আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডাররা লাভের পাশাপাশি ক্ষতির দায়ও বহন করেন। আমরা শুধু শেয়ারের মূল্য শূন্য ধরেছি, জরিমানা আরোপ করিনি।”


তিনি আরও জানান, আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব নিয়েছে। ২ লাখ টাকার মধ্যে থাকা সব আমানত পুরোপুরি নিরাপদ, আর বড় অঙ্কের আমানত ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।


অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ অভিযোগ করেছে যে, “গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা ব্যর্থ। শেয়ার শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত অবৈধ ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ।” সংগঠনটি বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভর্নরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।


গভর্নর বলেন,


“এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত। সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের স্বার্থেই এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”


বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ লাখ আমানতকারী ও ৭৫০টি শাখাবিশিষ্ট পাঁচ ব্যাংক এখন একটি একীভূত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় আসবে।