বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › “চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি ব্যবস্থাপনা জরুরি”—নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

“চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি ব্যবস্থাপনা জরুরি”—নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
“চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি ব্যবস্থাপনা জরুরি”—নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

নগরবাড়ি আধুনিক নদীবন্দর উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি শনিবার (৮ নভেম্বর) পাবনার নগরবাড়ি বন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, “যারা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে আপত্তি তুলছেন, তারা বলছেন আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশিদের নিয়োগ দিচ্ছি। বাস্তবে বিশ্বের অনেক দেশে বন্দরগুলো বিদেশি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন। চট্টগ্রাম বন্দর এখনও পর্যাপ্ত আধুনিক নয়। সঠিক আধুনিকায়নের জন্য বিদেশি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।’’


উপদেষ্টা আরও জানান, “নগরবাড়ি নদীবন্দরের সুফল ইতোমধ্যেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে এখানে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং সুবিধা যোগ করা হবে এবং চারটি ড্রেজার মেশিনের মধ্যে একটি নাব্যতা সংকট নিরসনের জন্য এই বন্দরে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি একটি মাঝারি আধুনিক পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডাব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা। বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার বেগম। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিআইডাব্লিউটিএ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


বিআইডাব্লিউটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নগরবাড়ি ঘাট নদীপথে সার, সিমেন্ট, কয়লাসহ ভারী পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১৮ সালে আধুনিক নৌবন্দর হিসেবে রূপান্তর শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ ও মামলার জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ৩৬ একর এলাকায় নির্মিত এই বন্দরে ৩৬০ মিটার কংক্রিট জেটি, টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, গুদাম, ওপেন শেড এবং দ্রুত পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা রয়েছে। ক্রেন ও পাকা জেটির ব্যবহারে পণ্য খালাসের গতি ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


আগে প্রতিদিন দুই হাজার টন পণ্য খালাস হতো; নতুন বন্দরের মাধ্যমে এখন এটি প্রায় ২০ হাজার টনে পৌঁছাবে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আগে সনাতন পদ্ধতিতে মালামাল ওঠানো-নামানো ও পরিবহন হতো, ফলে আমদানি কাজে গতি কম ছিল। নতুন বন্দরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি নগরবাড়ি ঘাটে পণ্য আনা যাবে এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সহজে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পূর্বে দক্ষিণের জেলাগুলোতে খালাসের কারণে উত্তরাঞ্চলে ট্রাক প্রতি ৮-১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হতো। এখন এসব প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।