প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীকে হত্যা: ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে জরেজ ও শামীমা
রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে (৪২) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা থেকেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত— এমন তথ্য দিয়েছে র্যাব। শনিবার সকালে কাওরানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মূলহোতা জরেজ ও তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার এক বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। জরেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা এক মাস আগে থেকেই আশরাফুলের সঙ্গে ফোনে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ শুরু করেন। নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি আশরাফুলকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলেন। পরিকল্পনা ছিল— অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, যেখানে জরেজ নেবে ৭ লাখ এবং শামীমা ৩ লাখ।
এর অংশ হিসেবে ১১ নভেম্বর জরেজ ও আশরাফুল ঢাকায় এসে শামীমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনজন মিলে শনির আখড়ায় ৫ হাজার টাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে আশরাফুলকে অচেতন করতে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয় এবং এরপর তার অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা চলে।
র্যাব জানায়, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তার হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেয়। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের পর জরেজ উত্তেজিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাসরোধ ও আঘাতে ঘটনাস্থলেই আশরাফুলের মৃত্যু হয়। সেই রাতেই একই কক্ষে মরদেহ রেখে অবস্থান করে দু’জন।
পরদিন ১৩ নভেম্বর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি ড্রাম কেনে। চাপাতি দিয়ে মরদেহকে ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে হাইকোর্ট মাজার গেটের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে ড্রাম দুটি সড়কের পাশে একটি বড় গাছের নিচে ফেলে দিয়ে তারা সায়েদাবাদে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর র্যাব-৩ কুমিল্লা থেকে শামীমাকে এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মূল আসামি জরেজকে গ্রেফতার করে।