অবসর ভাতা না পেয়ে অসুস্থতায় কাতর শিক্ষক মিজানুল হক, দ্রুত প্রাপ্য অর্থ প্রদানের দাবি
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মিজানুল হক আজ শয্যাশায়ী। দীর্ঘ ৩০ বছর শিক্ষকতা করে মানুষ গড়লেও অবসরের পর নিজের জীবনে নেমে এসেছে দুঃসময়। অবসরের তিন বছর পরেও তিনি পাননি তার প্রাপ্য অবসর ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ—যা ছিল তার শেষ সম্বল।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির জটিল রোগে ভুগছেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে পারছেন না। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের ওরাবাঁশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুল হক ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অবসর নেওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও ট্রাস্টে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন।
পারিবারিকভাবে তিনি আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। একমাত্র ছেলে ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করে। স্ত্রী সাজেদা খানম বয়সজনিত কারণে অক্ষম। মেয়ে সামিয়া আক্তার বিয়ের পর তাদের দুজনেই নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন।
মেয়ে সামিয়া আক্তার জানান,
“বাবা সৎ ও আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন। এখন তিনি মৃত্যুর মুখে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। সরকার দ্রুত তার প্রাপ্য টাকা প্রদান করুক।”
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“একজন শিক্ষক সারাজীবন বেতন থেকে টাকা জমা রাখেন। অবসরের পর যদি সেই টাকা না পান, তাহলে মৃত্যুর পর পেয়ে কী লাভ?”
আগৈলঝাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারহানা আক্তারসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রীও অবিলম্বে তার প্রাপ্য অর্থ প্রদানের জোর দাবি জানান।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন,
“বিষয়টি আগে জানতাম না। এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেব।”