মানিকগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সার পাচার: ডিলারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কৃষকদের
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডিলারদের মাধ্যমে ব্যাপক সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আরিচা বাজারের বিসিআইসি ডিলার যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশন এবং বিএসডিসি ডিলার নালী ট্রেডার্স-এর মালিক শুকুর আলী শিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেশি দামে সার বিক্রি ও অন্য উপজেলায় পাচারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, বার বার পাচার ধরা পড়লেও কৃষি কর্মকর্তারা কেবলমাত্র দায়সারা শোকজ নোটিশ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে দুঃসাহস আরও বেড়ে যাচ্ছে ডিলারদের। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র সার সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের কার্যত মালিক লালন মিয়া চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই এলাকার বাইরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রিতে জড়িত। ৩ নভেম্বর তিনি দৌলতপুর উপজেলার এক কৃষকের কাছে ৮ বস্তা সার পাঠান, যা ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া এলাকায় ধরা পড়ে। ঘটনা জানানো হলে সার উদ্ধার করা হলেও ডিলারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপরও লালন মিয়ার অপকর্ম বন্ধ হয়নি। গত বুধবার তিনি ঘিওর উপজেলার আরেক কৃষকের কাছে ৬ বস্তা সার বেশি দামে বিক্রি করে পাচারের চেষ্টা করেন। শ্রীবাড়ি এলাকায় সারসহ ধরা পড়লেও কৃষি কর্মকর্তা রিজিয়া তরফদার ‘মানবিক বিবেচনায়’ কৃষককে ছেড়ে দেন এবং ডিলারের বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
শুক্রবার দুপুরে যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশন ও নালী ট্রেডার্স থেকে ৫৮ বস্তা সার কিনে হরিরামপুরে পাচারের সময় আবারও ধরা পড়ে একটি চক্র। আরিচা গরুহাট সংলগ্ন এলাকায় নৌকায় বোঝাই করার সময় স্থানীয়দের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছান।
ক্রেতা জামাল মোল্লা জানান, তারা যমুনা ট্রেডিং থেকে ৪৫ বস্তা এবং নালী ট্রেডার্স থেকে ১৩ বস্তা ডিএপি সার ১১৫০ টাকা দরে কিনেছেন। ডিলাররা কোনো পরিচয়পত্র, ক্যাশ মেমো বা চালান দেননি।
ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত লালন মিয়া সাংবাদিকদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন। সার পাচারের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, “ভুল হয়েছে, আর করবো না। এইবারের মতো বিষয়টি চাপা দিন।”
পরে শিবালয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং লালন মিয়াকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেন এবং তাকে সতর্ক করেন যেন বিষয়টি ‘বেশি দূর না যায়’।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, “ডিলাররা যদি এ ধরনের কাজ করে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”