ঢাকায় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড: লাশ ২৬ টুকরো মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামির প্রেমিকা শামীমা গ্রেপ্তার
রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরো করে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে দুটি ড্রামে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ফরেজুল ইসলাম জরেজের প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)–কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। শুক্রবার সকালে কুমিল্লার লাকসামের বড় বিজরা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে র্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
র্যাব জানায়, আশরাফুল হকের সম্পদের বিষয়ে ধারণা থাকায় পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ষড়যন্ত্র করে জরেজ। তার নির্দেশনায় শামীমা এক মাস ধরে আশরাফুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ নভেম্বর রাতে ব্যবসার পাওনার কথা বলে জরেজ আশরাফুলকে রংপুর থেকে ঢাকায় ডেকে আনেন। পরদিন শনিরআখড়ার নূরপুরে তারা তিনজন মিলে একটি বাসা ভাড়া নেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শামীমা প্রেমের অভিনয় করে আশরাফুলকে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। পরে অচেতন অবস্থায় জরেজ তার হাত বাঁধেন ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেন। ইয়াবা সেবনের পর তিনি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন এবং আশরাফুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাশ একই ঘরে রেখে জরেজ ও শামীমা রাত কাটান।
১৩ নভেম্বর সকালে জরেজ একটি চাপাতি ও দুটি নীল ড্রাম কিনে এনে লাশকে ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরেন। সিএনজি যোগে ড্রাম দুটি হাইকোর্ট এলাকার পানির পাম্প সংলগ্ন স্থানে ফেলে পালিয়ে যান দুজন। এরপর শামীমাকে কুমিল্লায় ফিরে যেতে বলা হয়, আর জরেজ পালিয়ে যান।
একই দিন এলাকাবাসীর খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ড্রাম থেকে ২৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়। আশরাফুলের বোন শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব শামীমাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত স্কচটেপ, দড়ি, রক্তমাখা জামাকাপড়সহ আলামত উদ্ধার করে। র্যাব বলছে, ব্ল্যাকমেইল করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রধান আসামি জরেজকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। শামীমাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।