শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › নরসিংদীতে ভূমিকম্পে তিনজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭০

নরসিংদীতে ভূমিকম্পে তিনজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭০

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে তিনজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭০

নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আহত দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পে জেলায় অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন স্থান থেকে জানা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭, যা নরসিংদীসহ দেশের বহু জায়গায় অনুভূত হয়।


নিহতদের পরিচয়


সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকার হাফেজ ওমর (৮) ও তার বাবা দেলোয়ার হোসেন নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল চাপায় গুরুতর আহত হন। ওমর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়; দেলোয়ার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।


পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) মাটির ঘর ধসে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া পলাশের কাজীরচর নয়াপাড়া এলাকার নাসির উদ্দিন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় ভয় পেয়ে স্ট্রোক করে বাড়িতেই মারা যান।


তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড


ভূমিকম্পে পলাশের ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগে। এতে বেশ কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পলাশ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।


ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পের ধাক্কায় সাবস্টেশনে আগুন ধরে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।


বহুতল ভবন ও স্থাপনায় ফাটল


ভূমিকম্পে পলাশের ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা এসএ প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। একইভাবে ঘোড়াশালের লেবুপাড়া এলাকায় একটি ডেইরি ফার্মের মাঠে মাটি ফেটে যায়। পলাশ রেসিডেনশিয়াল স্কুল সংলগ্ন একটি ভবন, ঘোড়াশাল নতুন বাজারের একটি বাড়ি এবং বাবুরহাট বাজারের ধুমকেতু মাঠের চারতলা ভবন হেলে পড়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।


মানুষের আতঙ্ক, হাসপাতালে ভিড়


ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে ভবন, মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বের হতে গিয়ে বহু মানুষ আহত হন। কেউ পড়ে গিয়ে, কেউ বুকে ব্যথা বা মাথা ঘোরার কারণে হাসপাতালে যান।


নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫০ জন, ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ১০ জন এবং পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক শামীম।


ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ফলে এখনো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভয়ের প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা গেছে।