বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তিন শতাধিক হাইওয়ে পুলিশের ওপর নজরদারি

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তিন শতাধিক হাইওয়ে পুলিশের ওপর নজরদারি

favicon
অনলাইন সংস্করণ
সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তিন শতাধিক হাইওয়ে পুলিশের ওপর নজরদারি

সারা দেশে সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাইওয়ে পুলিশের তিন শতাধিক সদস্যকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চলছে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে হাইওয়েতে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। নওগাঁ থেকে কারওয়ান বাজারে বেগুন আনতে ট্রাকচালক রুহুল আমিন জানান, পথে বিভিন্ন স্থানে মোট দুই হাজার ৭৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে—যার মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা ও মালিক–শ্রমিক সংগঠনের নামে আদায় অন্তর্ভুক্ত।


বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের খুলনা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই জানান, মেহেরপুর থেকে ঢাকায় একটি তিন টনের ট্রাক আনতে ন্যূনতম তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এতে ট্রাকভাড়া বাড়ে, যা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।


কারওয়ান বাজারে কথা বলা আরও ১৩ জন ট্রাকচালক জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য আনতে গেলে নিয়মিত পথিমধ্যে চাঁদা দিতে হয়। তাদের দাবি—এই চাঁদাবাজিতে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাসহ শ্রমিক সংগঠনের কেউ কেউ জড়িত।


গত ৩ জুলাই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।


হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা জানান, গাজীপুর, চট্টগ্রামের পটিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্ত চলছে। গত ১৪ মাসে হাইওয়ে পুলিশের যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক অভিযোগের পর ছয় দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বডিক্যামেরা সারাক্ষণ চালু রাখা, দিনের বেলা অযথা চেকপোস্ট না বসানো, রাস্তায় নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র চেক করা, কাগজপত্র পুলিশ ভ্যান বা দূরে নিয়ে না যাওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিন মনিটরিং বৃদ্ধি ও স্পিডগান ব্যবহারে সতর্কতা।


সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চাঁদাবাজিকে হাতেনাতে ধরলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে কারাগারে পাঠানো হবে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় দেওয়ার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে।


বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা কার্যক্রম করছে, এবং নতুন আরও ৬৮টি থানা চালুর প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রায় তিন হাজার সদস্য হাইওয়ে পুলিশে দায়িত্ব পালন করছেন।


এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং চক্রের হালনাগাদ তালিকা তৈরি চলছে। ৯৯৯–এ অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি মামলার বহু আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।