মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ড: গৃহকর্মী ‘আয়েশা’ শনাক্ত, গ্রেপ্তার এখনো হয়নি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা–মেয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার প্রকৃত নাম, পরিচয় এবং স্বামীর তথ্য পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারের আগে তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে আটক করা গেলে হত্যার উদ্দেশ্যসহ আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়া (১৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পরদিন মঙ্গলবার তাদের দাফন সম্পন্ন হয় নাটোরে।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভবন ত্যাগ করছেন। স্বজনদের ধারণা, চার দিন আগে ‘আয়েশা’ নাম ব্যবহার করে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।
তদন্তসূত্র জানায়, গৃহকর্মী বাসায় কাজ নেওয়ার সময় ভুয়া নাম–ঠিকানা দিয়েছিলেন। তাকে চিনতেন না বাসার কেউই। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। বাসা থেকে নেওয়া ফোনটি বের হয়েই বন্ধ করে দেন তিনি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল না থাকায় তিনি কোন পথে পালিয়েছেন তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সবসময় বোরকা পরা অবস্থায় থাকায় তার মুখও স্পষ্টভাবে ক্যামেরায় ধরা যায়নি।
তাই তাকে শনাক্ত করতে তদন্ত দলকে ম্যানুয়ালি বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করতে হয়েছে।
এদিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানান, গৃহকর্মীর পরিচয় জানতে জোর প্রচেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
নিহত লায়লার স্বামী আজিজুল এ ঘটনায় মামলা করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে— সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে গৃহকর্মী বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে তার মেয়ের স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান তিনি। সন্দেহভাজন তরুণী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী ও মেয়েকে আঘাত করে হত্যা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্ত এখনো চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।