বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মুদি দোকানে অবাধে সরকারি সার বিক্রি, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মুদি দোকানে অবাধে সরকারি সার বিক্রি, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মুদি দোকানে অবাধে সরকারি সার বিক্রি, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে রাসায়নিক সার বিক্রির কথা থাকলেও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মুদি দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও অন্যান্য রাসায়নিক সার।


খাদ্যদ্রব্যের পাশেই এসব সার মজুদ ও বিক্রি করায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যপণ্যের সঙ্গে রাসায়নিক সার সংরক্ষণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; এতে সারের ক্ষতিকর উপাদান খাদ্যে মিশে মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীপুর, ফুলবাড়িয়া, জালালপুর, পাঁচলিয়া, দোড়া, কুশনা, তালসারসহ অন্তত ২০টি বাজারের মুদি দোকানে কৃষকের বরাদ্দের সার বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলাররা সরকারি দরের সার বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে মুদি দোকানিদের কাছে সরবরাহ করছেন।


এসব দোকান থেকে সার সহজে মিললেও কৃষকদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাকিতে কিংবা দাদন হিসেবে সার নিতে হচ্ছে, যার বিনিময়ে ফসল উঠলে উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ দোকানিদের দিয়ে দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২১ টাকার সার ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা সংরক্ষণবিধি মানা হচ্ছে না। চিনি, ডাল ও ভোজ্যতেলের সঙ্গে একই স্থানে সার রাখা হয়েছে। কোথাও দোকানের পেছনে গোডাউন করে সার মজুদ রাখা হয়েছে। এমনকি সার বিক্রির পর হাত না ধুয়েই শিশুদের কাছে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।


ফুলবাড়িয়া এলাকার কৃষক নওশের আলী বলেন, ডিলারদের কাছে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে মুদি দোকান থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।


কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিমন পারভেজ বলেন, খাদ্যের সঙ্গে রাসায়নিক সার সংরক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও চর্মরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়, যা শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক।


জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ডিলার ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে, যা কৃষি বিভাগের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার তদারকির দাবি জানান তিনি।


এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার মুদি দোকানে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি নজরে এসেছে এবং অবৈধভাবে সার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।